Showing posts with label স্বাস্থ. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ. Show all posts

Tuesday, December 6, 2016

এক শিশুর জন্মে তিন জনের ভুমিকা

বিশ্বে এই প্রথম নতুন এক পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তিনজন মানুষের ভূমিকা।

এই শিশুটির জন্মের পেছনে তাঁদের বাবা-মা ছাড়াও আরো একজনের অবদান ছিল।

কয়েক মাস আগে শিশুটির জন্ম হয়। তবে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ খবরটি সম্প্রতি প্রকাশ করে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নতুন প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকরা মায়ের ডিম্বাণু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব ডিএনএ সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে দাতার ডিম্বাণু থেকেও স্বাস্থ্যকর মাইটোকন্ড্রিয়া সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর এ দুটিকে নিষিক্ত করা হয় পিতার শুক্রাণু দিয়ে। পরে শিশুটির জন্ম হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, নবজাতক শিশুটি একটি ছেলে। তাঁর বয়স এখন পাঁচ মাস। শিশুটি সুস্থ আছে। এখন পর্যন্ত তার শরীরে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি।

এই শিশুটির শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ছিল তার মা ও বাবার ডিএনএ। কিন্তু এরপরও তৃতীয় আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ছোট একটি জেনেটিক কোড নিয়ে সেটি তার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ওই ব্যক্তিটি একজন দাতা।

শিশুটির মা জর্ডানের নাগরিক। তাঁর জিনে কিছু ত্রুটি ছিল। শিশুটি যাতে ত্রুটিমুক্ত হয়ে জন্মাতে পারে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা সেটা নিশ্চিত করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, যেসব পরিবারে জেনেটিক ত্রুটি বা সমস্যা আছে, বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার তাদের সাহায্য করতে পারে। তবে তাঁরা বলছেন, এই কাজটি করার আগে বহু জিনিস পরীক্ষা করে নেওয়া খুব জরুরি।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন নামে এ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো প্রচুর বিতর্ক হচ্ছে।

তিনজন মানুষের শরীর থেকে ডিএনএ নিয়ে এই প্রথম কোনো শিশুর জন্ম হলো। ব্যাপারটি কিন্তু তা নয়।

নব্বইয়ের দশকে এই কাজ প্রথম হয়েছে। তবে এবার যেভাবে করা হলো, সেটি একেবারে নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রক্রিয়া।

প্রত্যেক কোষের ভেতরে থাকে ছোট্ট একটি কম্পার্টমেন্ট, যাকে বলা হয় মাইটোকন্ড্রিয়া। এই মাইটোকন্ড্রিয়া খাদ্য থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে।

কোনো কোনো নারীর মাইটোকন্ড্রিয়ায় জেনেটিক ত্রুটি থাকে এবং সেটা তাদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারে।

জর্ডানের এই পরিবারটির যে ত্রুটি ছিল, তার নাম 'লেই সিন্ড্রোম'। এবং এই ত্রুটির ফলে শিশুটির মৃত্যুও হতে পারত।

এই ত্রুটি সংশোধন করতে বিজ্ঞানীদের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের গবেষণা আইন করে নিষিদ্ধ। তাই চিকিৎসকদের এই দলটিকে যেতে হয়েছে মেক্সিকোতে, যেখানে এসব নিষিদ্ধ করে কোনো আইন কার্যকর নেই।
তথ্যসুত্রঃ এন টিভি ডট কম

Thursday, December 1, 2016

তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ কেন বাড়ছে?

আগে দেখা যেত কেবল মধ্য বয়সের লোকেরা হার্ট অ্যাটাকের সমস্যায় ভুগছেন। তবে এখন দেখা যায় তরুণরাও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।

এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৫৭১তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মো. শাহাবউদ্দিন খান। বর্তমানে তিনি আল হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রশ্ন : তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ কেন বাড়ছে?


উত্তর : এটির অনেক কারণ। আমাদের ৩০ বছর আগে যে জীবনযাত্রা প্রণাল ছিল এখন এটি পরিবর্তন হয়ে গেছে। মূলত ইসকেমিক হার্ট অ্যাটাক ছিল পশ্চিমা জগতের একটি রোগ। আমরা যখন তরুণ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ি, ৭৫ সাল থেকে বলতে পারি, আমরা ৫৫, ৬০ বা সত্তরের আগে হার্ট অ্যাটাক হতে দেখতাম না। অথচ গত বছর আমার আল হেলাল হাসপাতালে তিয়াত্তরটা ছেলে মেয়ের হার্টের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে যাদের বয়স পঁয়ত্রিশের কম।এটি খুব ক্ষতির। এর কারণ হলো আমাদের আর্থিক সঙ্গতি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। প্রচুর লোক গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হয়ে যাচ্ছে। ফাস্টফুডের প্রতি একটি আকর্ষণ। সেডেন্টারি জীবন যাপন। রিকশা ছাড়া কেউ চলতে চায় না। আগে গ্রামের বাজারে যেতে হলে তাকে তিন কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো। এখ নতো কেউ হাঁটতেই চায় না। ওজনাধিক্য। বেশির ভাগ লোকেরই পেট বড় হয়ে যাচ্ছে। ধূমপান করা। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সারাদিন কাজ করার পর টিভি নিয়ে বসে পড়ে বা কম্পিউটার, ট্যাব এগুলো নিয়ে বসে পড়ে। এ ছাড়া আমাদের মতো উদীয়মান তৃতীয় বিশ্বের দেশে, ইনফেকটিং এজেন্টগুলোও একটি কারণ। সেই সঙ্গে যেটা হলো আর্থিক উন্নতির সাথে সাথে খাবারের অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। মাছে ভাতে বাঙালি এখন ফাস্টফুড বেশি খাচ্ছে। প্রতিযোগিতা ধরে রাখার জন্য ঢাকা শহরে যে মানসিক চাপ আমাদের নিতে হচ্ছে, এটিও একটি কারণ। এ ছাড়া যেটা আমরা পরিবর্তন করতে পারি। আরেকটি হলো উচ্চ রক্তচাপ।


একজন ভালো চিকিৎসককে দেখিয়ে খুব সহজেই কিন্তু এটা ঠিক থাকে। ডায়াবেটিস দিন দিন এর হার বেড়ে যাচ্ছে। যে ডায়াবেটিস একসময় ছিল মাত্র দুই ভাগ লোকের এখন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের মধ্যে অনেকের আছে। খাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। আর্থিক সঙ্গতির সাথে সাথে সিগারেট, টোবাকো খাওয়া বেড়ে যাচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার যে প্রাকৃতিক নিয়ম এর থেকে সরে যাওয়া সব মিলিয়ে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হচ্ছে। এই জিনিস যে কেবল বাংলাদেশে তাই নয় সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতেই হচ্ছে। আমরা ইদানীং একে নাম দিয়েছি ম্যালিগনেন্ট করোনারি আর্টারি ডিজিজ।

একটা ৩৫-৪০ বছরের  ছেলে দিনে হয়তো ১০টা সিগারেট খায়, হালাকা পাতলা, তার হয়তো কোলেস্টেরল বেশি আরো নানা সমস্যা আছে, একদিন হয়তো আসল বুকে ব্যথা নিয়ে, পরে যখন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করি- দেখা গেল তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তো আমাদের এই হার্ট অ্যাটাকের জন্য আমি যেই কথাগুলো বললাম, রক্তে কোলেস্টেরলের প্রাধান্য, সিগারেট বা তামাক ব্যবহার, সেডেন্টারি জীবন যাপন এবং পেটে স্থূলতা। এগুলো বড় সমস্যা। এ ছাড়া কিছু সমস্যা থাকে, যেমন অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য হাইপার ইউরেসেমিয়া, ইউরিক এসিডট বেড়ে যাচ্ছে। হাইপারহোমোসিস্টেনেমিয়া। আয়রন কনটেন্ট খুব বেশি থাকা। লাইপোপ্রোটিন এ বেশি থাকা। এখন একজন রোগী যখন আমার কাছে হার্ট অ্যাটাক নিয়ে আসে আজকে দীর্ঘ বছর পর আমি অন্তত লজ্জা পাই। এটা আমাদের ব্যর্থতা। চিকিৎসক সমাজের ব্যর্থতা। এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ব্যর্থতা। এটা আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমরা কেন তাকে এই তথ্যগুলো দিতে পারলাম না।





তথ্যসুত্রঃ দেশ টিভি বিডি ডট কম